পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে এবং বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল।
বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনার পর ব্রিকস আউটরিচে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সুযোগ আর নেই। উল্লেখ্য, আঞ্চলিক সংস্থা বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে গত ১৪ জুলাই ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, একজন সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিষাক্ত বক্তব্য প্রচারের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানান, ভারত একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবে এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক চাইবে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্যকে ভারত সরকার সমর্থন বা অনুমোদন করে না। সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের অংশ হিসেবে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠক করছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।




