সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি জানান, ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৪৯ হাজার ৫৮৯টি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৬ জন শিক্ষার্থী এ আয়োজনের আওতায় থাকবে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই টুর্নামেন্টের নাম নির্ধারণ করেছেন। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া ও শিক্ষা উৎসবে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, উদ্বোধনী ম্যাচে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপের মতো ফাইনালেও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কামনা করা হচ্ছে।
সভায় জানানো হয়, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ১৯ হাজার ১১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫ হাজার ১৪টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৬২টি কলেজ, ৯ হাজার ২৬৯টি মাদ্রাসা এবং ২ হাজার ৮২৭টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, মাঠ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে প্রতিযোগিতা বাস্তবায়নে কাজ করবে। জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও শিক্ষা বোর্ডগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে। স্থানীয় খেলার মাঠগুলোও প্রতিযোগিতা উপযোগী করে প্রস্তুত করা হবে।
তিনি আরও জানান, এবার টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের আদলে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে থাকবে থিম সং, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সৃজনশীল প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন। প্রতিযোগিতা শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হবে।
মাহদী আমিন বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। সরকারের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়া, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব বিকাশে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
প্রতিযোগিতার বাজেট সম্পর্কে তিনি জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো নির্দিষ্ট বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি। দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ড নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।