আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং পদক বিতরণ করবেন।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টিতে মৎস্যখাতের অবদান দিনদিন বাড়ছে। বর্তমানে জাতীয় জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ২.৫৮ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২২.০৩ শতাংশ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ মানুষ এ খাতের সঙ্গে জড়িত, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীও রয়েছেন। এ খাতের প্রবৃদ্ধির হারও সন্তোষজনক। তিনি বলেন, সরকারের দূরদর্শী নীতি, গবেষণা ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ খাতকে আরও আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে মাথাপিছু দৈনিক মাছের প্রাপ্যতা ৬৭.৮০ গ্রাম, যা জাতীয় পুষ্টিচাহিদা নির্ধারিত ৬০ গ্রামের চেয়েও বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৫১.১১ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। তিনি মৎস্যজীবী, চাষি, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে বলে জানান।
আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এফএও-এর 'দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬' প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষের মাছ উৎপাদনে পঞ্চম। ইলিশ আহরণে বিশ্বে প্রথম, তেলাপিয়া উৎপাদনে অষ্টম, ক্রাস্টেশিয়ান আহরণে ষষ্ঠ এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ১১ হাজার ৫৫২ জন। এর মধ্যে ইলিশ আহরণকারী ৬ লাখ ৫০ হাজার ২৫১ জন, হাওরাঞ্চলের ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬৪৮ জন এবং সমুদ্রগামী জেলে ৩ লাখ ২৫ হাজার ২১১ জন।
মন্ত্রী জানান, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব নয়; এ জন্য জেলেদের বিকল্প খাদ্য ও আয়ের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ মৌসুমে ৪০ হাজার ইলিশ জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ১৫ হাজার ৫০৩.৫০১ মেট্রিক টন, জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ৪ মাসে ৫৮ হাজার ৭২০.১৬১ মেট্রিক টন, সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ২৪ হাজার ১৬৫.৬২৫ মেট্রিক টন এবং কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের ১ হাজার ৬১০.৭০১ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
মাছ ধরতে গিয়ে নিহত ২৬ জন জেলের পরিবারকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা, নিখোঁজ ১৩ জনের পরিবারকে একই পরিমাণ এবং অক্ষম একজন জেলেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ২৯৫ জন উপকারভোগীকে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, সবজি বাগান ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে মৎস্যখাত নিয়ে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জলমহাল, উপকূলীয় খাল ও হাওরের ইজারা প্রথা বিলুপ্ত করে 'জাল যার, জলা তার' নীতির ভিত্তিতে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে। চিংড়ির বৈশ্বিক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা ও বিদেশের সুপারশপগুলোতে মানসম্মত চিংড়ি সরবরাহের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি, সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত সচিব ইমাম উদ্দীন কবির ও সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক-সহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





