আজ ঢাকায় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত 'জুলাইয়ের কণ্ঠস্বর: তারুণ্য, প্রত্যয়, প্রতিরোধ' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে শুধু একটি নির্দিষ্ট আন্দোলন হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা যাবে না। বিভিন্ন দাবি, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু হওয়া একাধিক আন্দোলন একপর্যায়ে বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। কেউ চাকরির দাবিতে, কেউ গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে, আবার কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিলেন। ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও অবস্থান থাকলেও শেষ পর্যন্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষার একটি অভিন্ন জায়গা তৈরি হয়েছিল—রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা যেন জনগণের জন্য পরিচালিত হয় এবং নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক অর্জনের চেতনাও একসময় রাজনৈতিক মালিকানার মধ্যে চলে গিয়েছিল। ফলে একটি মহান জাতীয় অর্জনের চেতনাকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। একই ধরনের পরিস্থিতি যেন জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তরুণদের দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নাগরিকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং সরকার গঠনের পর তাকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা শুধু দাবি করবেন না, সরকার ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কি না, সেটিও দেখবেন। কোনো মন্ত্রী, এমপি বা জনপ্রতিনিধি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছেন কি না, সেটি প্রশ্ন করা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা নাগরিকের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক। কেউ একটি দলকে সমর্থন করতে পারেন, অন্য কেউ অন্য দলকে সমর্থন করতে পারেন। কিন্তু দল বা ব্যক্তির ঊর্ধ্বে দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে স্থান দিতে হবে। 'দল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশ। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, সরকারব্যবস্থা যেন সবসময় জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক থাকে—এটাই আমাদের মূল প্রত্যাশা,' বলেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।





