খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতদের সহায়তা অব্যাহত রাখা, প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর বিশেষ উদ্যোগ ও কৃষি ঋণ মওকুফের কিছু কর্মসূচি সরকারের সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। জ্বালানি নিরাপত্তার আশু নিশ্চয়তাও সরকার দিতে পারছে না। স্থানীয় সরকার বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নিয়োগে দলীয় ও অযোগ্য ব্যক্তিদের পদায়ন ঘটানো হচ্ছে। বিগত ৬ মাসে তাদের ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের গণরায়কে উপেক্ষা করে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন চায়। অথচ জনগণ বিদ্যমান সংবিধানের এমন সংস্কার চায়, যার দ্বারা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সকল পথ রুদ্ধ হয়ে আসবে। এজন্য জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। আর তা সম্ভব সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে, যার থাকবে সংবিধানের মৌলিক শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের কাঠামোগত ক্ষমতা। সেই ক্ষমতা ইতোমধ্যে গণভোটে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে রায় প্রদানের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ দিয়ে দিয়েছে।
আমরা সরকারকে জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি জুলাই ও শাপলা গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমীরে খেলাফত মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফেজ মাওলানা শায়খুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, ডা. আবদুর রাজ্জাক আসাদ, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া ও আবুল হোসেন।



