গতকাল রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে নেওয়া সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
সরকার তেলের দাম বৃদ্ধির আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কেন রাতের বেলায় গেজেট প্রকাশ করেছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন তুলেন।
ফেসবুক পোস্টে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির লেখেন, “তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে একটি আইনি প্রক্রিয়া আছে। গণশুনানির বিধান আছে। সেইগুলি করলেন না কেন? হঠাৎ রাতের বেলা গেজেট দিতে হল কেন? কে আপনাদের এইসব তুঘলকি পরামর্শ দেয়?”
এর আগে, গতকাল (রবিবার) প্রকাশিত জ্বালানি বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার গত ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বিগত পাঁচ মাস দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। কেরোসিনের দাম লিটারে ১৩৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১৪০ থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা আর অকটেনের দাম ১৪৫ থেকে বাড়িয়ে ১৬৫ টাকা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জ্বালানি বিভাগ বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেলেও সরকার জনস্বার্থে দেশে মূল্যবৃদ্ধি করেনি। ফলে গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।




