ভারতের সংবাদপত্র দ্য হিন্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবির বলেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন বলে ঢাকার অভিযোগ। তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতাদের কর্মকাণ্ড ভারত বা বাংলাদেশের কারও জন্যই সুফল বয়ে আনবে না। ভারত এ বিষয়ে সহযোগিতা করলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব হবে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে রয়েছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী কখনো ভারত সফরে না যাওয়ার কথা বলেননি। উপযুক্ত সময়ে সফরটি হতে পারে এবং তিনি এ বিষয়ে আশাবাদী।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তিনি ভালো ভূমিকা রাখছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছেন। দিল্লি তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনের সময় প্রায় ২ হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগও করেন হুমায়ুন কবির। তাঁর ভাষ্য, অতীতের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের একটি ‘পরিষ্কার বিচ্ছেদ’ প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিটি দেশই নিজেদের প্রয়োজন ও জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়।
তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে দুই সরকার আলোচনায় বসলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে কোনো পক্ষই অন্য দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেবে না—এমন পারস্পরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে ঢাকা।




