জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতিষ্ঠার দিন ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস হিসেবে পালিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘আজই উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’। এর লক্ষ্য খাদ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং খাবারের অপচয় কমানো।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের ৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ক্ষুধার মুখে ছিল। আফ্রিকায় অপুষ্টির পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। মহাদেশটিতে প্রায় ৩০ কোটি ৯০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগেছে। এশিয়ায় এ সংখ্যা ছিল ২৯ কোটি ২০ লাখ।
খাবারের অপচয়ের সবচেয়ে বড় অংশ ঘটে পরিবারে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির হিসাবে, মোট অপচয়ের ৬০ শতাংশ পরিবারে, ২৮ শতাংশ রেস্তোরাঁ ও খাদ্যসেবা খাতে এবং ১২ শতাংশ দোকানপাটে ঘটে। এ ছাড়া উৎপাদিত খাবারের প্রায় ১৩ শতাংশ ফসল তোলা থেকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়।
খাবারের অপচয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বছরে এক লাখ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হয়। উৎপাদিত কিন্তু খাওয়া হয় না—এমন খাবারের জন্য ব্যবহৃত জমি ও সম্পদের অপচয়ও পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। খাবারের ক্ষতি ও অপচয়ের কারণে বিশ্বে মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের আনুমানিক ৮ থেকে ১০ শতাংশ ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খাবারের অপচয় কমাতে বাজারের আগে তালিকা তৈরি, প্রয়োজনমতো রান্না, সঠিকভাবে খাবার সংরক্ষণ এবং বেঁচে যাওয়া খাবার কাজে লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে একদিকে সম্পদের অপচয় কমবে, অন্যদিকে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও জোরদার হবে।




