২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গবেষকসহ প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূসের নাম ঘোষণার পর উপস্থিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাঁকে সম্মান জানান।
এ বছর ড. ইউনূসসহ চারজনকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অন্য বিজয়ীরা হলেন ভারতের সেলফ-এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশনের (সেবা) পরিচালক রিমা নানাবতী, ফ্যাশন ডিজাইনার ও টোরি বার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ এবং জর্ডানের মাইক্রোফান্ড ফর উইমেনের বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান। মুনা সুখতিয়ান পেয়েছেন বিশেষ ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’।
অনুষ্ঠানে হিলারি ক্লিনটন গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এ ব্যাংকের মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হয়েছেন, নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছেন। ড. ইউনূস তাঁর কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাইরেও এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুরস্কার গ্রহণের পর ড. ইউনূস বলেন, তাঁর কাজের ৫০ বছরের স্বীকৃতি এই আয়োজন। এ সম্মাননা বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের অনুপ্রাণিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষকে স্বাবলম্বী করা এবং নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়নই ছিল তাঁদের কাজের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর মতে, একসময় যারা নীরবে থাকতেন, সেই নারীরাই এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের প্রয়োজন তুলে ধরছেন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক হিসেবে ব্যাংক পরিচালনা করছেন।
তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, চাকরিপ্রার্থী হওয়ার পরিবর্তে চাকরি সৃষ্টির মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসার ধারণা তুলে ধরে তিনি জানান, এর মূল লক্ষ্য ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জন নয়, বরং সামাজিক সমস্যার সমাধান। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সামাজিক ব্যবসার অর্থায়নে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উদ্বৃত্ত অর্থ আবারও স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ করছে।




