মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার আগে মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে হাজির করা হয়।
রায়ে নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের তিন নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সম্পৃক্ততার ছয় নম্বর অভিযোগ এবং ষড়যন্ত্রের সাত নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণসহ পৃথকভাবে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এক, দুই, চার, পাঁচ ও আট নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল জানান, পৃথক তিনটি অভিযোগে মোট ৩০ বছরের সাজা হলেও দণ্ডগুলো একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এর আগে গত ২২ জুন শুনানি শেষে ৩০ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলন দমনে উসকানি, ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা, নির্দেশনা ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলপ্রয়োগে উৎসাহিত করেন।
এছাড়া তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিয়ে আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে সমর্থন, কুষ্টিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নির্দেশনা প্রদান এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সম্পৃক্ততার অভিযোগও আনা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হন এবং বহু আন্দোলনকারী আহত ও নির্যাতনের শিকার হন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগের তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন।