আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি ইংরেজি পরীক্ষায় দুই পরীক্ষার্থীকে এআই চশমা ব্যবহারের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। দেশটিতে পরীক্ষায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতির এটিই প্রথম ধরা পড়া ঘটনা।
এদিকে তাইওয়ানের একটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায়ও এক পরীক্ষার্থীকে সন্দেহজনক আচরণের কারণে আটক করা হয়। পরীক্ষার সময় তিনি বারবার চশমার দিকে তাকাচ্ছিলেন। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, চশমাটি থেকে তাপ নির্গত হচ্ছিল এবং সেটিতে স্মার্ট প্রযুক্তি সংযুক্ত ছিল।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে চীন দেশের সবচেয়ে বড় কলেজ ভর্তি পরীক্ষা ‘গাওকাও’-তে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের সব ধরনের চশমা বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়। এ বছর এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী।
কীভাবে কাজ করে এআই চশমা?
বিশ্বজুড়ে এআই চশমার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৩ সালে মেটা তাদের রে-ব্যান স্মার্ট গ্লাস বাজারে আনার পর এ ধরনের ডিভাইসের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত বছরই প্রায় ৭০ লাখ এআই চশমা বিক্রি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই চশমাগুলো দেখতে সাধারণ চশমার মতো হলেও এগুলোতে থাকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, ডিসপ্লে এবং ইন্টারনেট সংযোগের সুবিধা। স্মার্টফোন বা অনলাইন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এগুলো আধুনিক এআই মডেলের সহায়তায় দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে।
হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক মেং জিল্লি বাজারে পাওয়া একটি এআই চশমা দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, পরীক্ষার্থী শুধু প্রশ্নপত্রের দিকে তাকালেই চশমার ক্যামেরা প্রশ্নটি ধারণ করে। এরপর সেটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে এআই ভাষা মডেলে পাঠানো হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তৈরি হওয়া উত্তর চশমার লেন্সের ক্ষুদ্র ডিসপ্লেতে ভেসে ওঠে।
তিনি ১০০ জন পরীক্ষার্থীকে নিয়ে পরিচালিত একটি মক পরীক্ষায় দেখেছেন, যারা এআই চশমার সহায়তা নিয়েছিলেন, তারা ফলাফলে শীর্ষ পাঁচজনের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এআই চশমার প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাই অনেক দেশ ইতোমধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে স্মার্ট ডিভাইস শনাক্তকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা এবং চশমাসহ পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি কঠোরভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।