জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) বিয়ে ও তালাকসংক্রান্ত তথ্য গোপন বা ভুয়া তথ্য দেওয়ার সুযোগ বন্ধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে কাবিননামা ও তালাকনামা অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বৈবাহিক তথ্য গোপন, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার এবং উত্তরাধিকার ও পেনশনসংক্রান্ত জটিলতার মতো বিভিন্ন ঘটনা সামনে আসায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিভাগের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডার সংযুক্ত করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) চাওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় এনআইডির অনলাইন আবেদন বা তথ্য সংশোধনের সময় কাবিননামা ও তালাকনামার তথ্য নির্ধারিত ঘরে দিতে হবে। তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা সংশ্লিষ্ট সার্ভার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হবে। তথ্য ভুল, ভুয়া বা অসম্পূর্ণ হলে আবেদন পরবর্তী ধাপে এগোবে না। ফলে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে এনআইডি সংশোধনের সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে।
শুধু বৈবাহিক তথ্য নয়, আরও আট ধরনের তথ্যও অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছেও এপিআই চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, একটি নির্ভুল এনআইডি ডাটাবেজ গড়ে তুলতে তথ্যের শতভাগ সঠিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক তথ্য ম্যানুয়ালি যাচাই করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সার্ভার থেকে সরাসরি তথ্য যাচাই করা গেলে অনিয়ম ও জালিয়াতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
ইসি সূত্র জানায়, বর্তমানে এনআইডি নিবন্ধন, তথ্য সংশোধন এবং প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ভবিষ্যতে এসব তথ্য ধাপে ধাপে অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হলে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভারে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।