মৃতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২২ জন, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙামাটিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে আগামী দু-এক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। রেললাইন ও সড়কে পানি ওঠায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক পাহাড়ধসে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড়ধসে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ তিনজন এবং ঢলের পানিতে ডুবে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী এলাকায় প্রায় সাত লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।
রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতেও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে পানি ওঠায় আটকে পড়া ৫৬১ পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১৫০ জনকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এদিকে ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ থেকে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
খুলনা মহানগরীতেও টানা বর্ষণে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে এবং ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ৮ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
ত্রাণ সহায়তা হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোটের চাহিদা জানানো হয়েছে।