বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৩৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যদিও আগের সপ্তাহের তুলনায় দৈনিক গড় লেনদেন ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমেছে। তবুও নির্বাচিত কিছু খাতে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রেখেছে।
আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬০ পয়েন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। আগের সপ্তাহ শেষে এ সূচক ছিল ৫ হাজার ৭৪৪ পয়েন্ট।
একই সময়ে ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ১৬২ পয়েন্ট। এছাড়া শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৮৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৫১টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১২২টির কমেছে এবং ১৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া ২৪টি সিকিউরিটিজে কোনো লেনদেন হয়নি।
সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন এবং জিপিএইচ ইস্পাতের শেয়ার।
খাতভিত্তিক লেনদেনে বস্ত্র খাত ছিল সবচেয়ে এগিয়ে। মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ এ খাতের দখলে ছিল। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের অংশ ছিল ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর ওষুধ খাতের ১০ দশমিক ১ শতাংশ, প্রকৌশল খাতের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ৭ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।
সাপ্তাহিক রিটার্নের দিক থেকে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করেছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাত, যেখানে গড় রিটার্ন এসেছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া পাট খাতে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ডে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং বস্ত্র খাতে ৪ দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন পাওয়া গেছে। বিপরীতে, একমাত্র ব্যাংক খাতে দশমিক ৭ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
অন্যদিকে, দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে সিএএসপিআই সূচক দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে এবং সিএসসিএক্স সূচক দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৭৯৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে মোট ১৯০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের ১৭১ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। লেনদেন হওয়া ২৪৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১২৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৯১টির কমেছে এবং ৩১টির দর অপরিবর্তিত ছিল।