শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেরি মহানন্দা-এর মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টায় চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন নিয়ে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ফেরি মহানন্দা। প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর ঢাকা থেকে গাড়িযোগে চেয়ারম্যান ঘাটে পৌঁছান স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এরপর ফেরিটি মাঝনদী থেকে ঘুরিয়ে আবার চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে এমপি তাঁর নেতাকর্মীদের নিয়ে ফেরিতে ওঠেন। পরে ফেরিটি পুনরায় নলচিরা ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির বলেন, প্রথমে ফেরির মাস্টার জানিয়েছিলেন ফেরি ছাড়বে না। পরে আবার নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সেটি আবার ফিরে আসে এমপিকে নেওয়ার জন্য। হাতিয়ার ফেরি চলাচলের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে দেখিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী বলেন, মাঝনদীতে গিয়ে হঠাৎ ফেরি ঘুরে যেতে দেখে সবাই অবাক হয়ে যান। পরে ঘাটে ফিরে দেখা যায়, এমপি হান্নান মাসউদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন ফেরিতে উঠছেন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এমন সিদ্ধান্তে যাত্রীরা উদ্বেগ ও ভোগান্তিতে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছাড়ার কিছুক্ষণ পর এমপির জন্য ফেরি ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁর ভাষ্য, ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।
ফেরির মাস্টার নুরুল আমীন বলেন, ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের কাছ থেকে এমপি ঘাটে এসেছেন বলে জানতে পারেন। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরি ঘুরিয়ে তাঁকে নিয়ে যাত্রা পুনরায় শুরু করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ভিআইপির জন্য যাত্রীবোঝাই ফেরিকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা কতটা যৌক্তিক।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এগুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই, চলুক।”