সোমবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাতে ব্যাংককের চাতুচাক এলাকার রং বিয়ার না লাত ফ্রাও নামের বারটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থাইরথ ও ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, রাত ১২টার কিছুক্ষণ পর আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে বারটির ভেতর থেকে ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর মুহূর্তেই পুরো ভবনে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বারটির সামনের অংশ দিয়ে দাউদাউ করে আগুন বের হচ্ছে এবং লোকজন দৌড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন।
প্রথমে আগুন দেখতে পেয়ে এক পথচারী জরুরি সেবায় ফোন করেন। পরে তিনি জানালার কাচ ভেঙে অন্তত দুইজনকে উদ্ধার করেন বলেও জানা গেছে।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, আগুন লাগার সময় বারে একজন সংগীতশিল্পী পরিবেশনা করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে মূল বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ডে আগুন লাগে। এরপর একটি বিকট বিস্ফোরণের সঙ্গে খুব দ্রুত আগুন ও ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই ধোঁয়া থেকে বাঁচতে ভবনের পেছনের দিকে গিয়ে শৌচাগারে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে উদ্ধারকারীরা সেখান থেকেই অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করেন।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ড থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এছাড়া ভবনের ভেতরে থাকা দাহ্য সাজসজ্জার উপকরণের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি নির্গমনপথ টেবিল বা অন্যান্য আসবাবপত্র দিয়ে আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি নির্গমনপথের মানও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।