সোমবার (১৩ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি এ মন্তব্য করেন। এ তথ্য জানিয়েছে শাফাক নিউজ।
ইসমাইল বাকি বলেন, গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা শুরু থেকেই সংকটে পড়ে। তার অভিযোগ, চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করে আসছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন তিনি। তার ভাষ্য, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত নিরাপদ নৌপথ ব্যবহার না করে ভিন্ন পথে চলার চেষ্টা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের কারণেই সমঝোতাটি এমনভাবে করা হয়েছিল, যাতে একতরফা ব্যাখ্যার সুযোগ না থাকে।
ইরানের অবস্থান তুলে ধরে বাকি বলেন, "প্রতিশ্রুতির বিপরীতে প্রতিশ্রুতি। যতদিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে, ততদিন ইরানও নিজের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবে।"
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা ও লজিস্টিক অবকাঠামোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে ইরান এ অঞ্চলের কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালায়নি এবং ভবিষ্যতেও চালানোর পরিকল্পনা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত অপরাধের প্রমাণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপন করা হবে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক আইনের সব ধরনের পথ অনুসরণ করা হবে বলেও জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র।
এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে ইসমাইল বাকি বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না।