বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পাবনা সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, পাবনা পৌরসভার দিলালপুর কফিলউদ্দিনপাড়া এলাকার মৃত ইমরান হোসেনের ছেলে আফনান আহম্মেদ আবির (২১), একই এলাকার লোকমান হোসেনের ছেলে রাকিব হাসান (১৯), শালগাড়িয়া এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে নাজমুস সাদাত নাফি (১৯), দিলালপুর ফায়ার সার্ভিস-সংলগ্ন এলাকার উজ্জ্বল শেখের ছেলে বিশাল শেখ সাদ (২২) এবং সুজানগরের আমিনপুর থানার দুর্গাপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে সানজিদ হাসান সুপ্ত (১৯)।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী ইন্দ্রজিৎ দাস রায় দেব (১৫) পাবনা পৌরসভার শিবরামপুর নারিকেল বাগান সড়ক এলাকার বাসিন্দা প্রলয় দাস রায়ের ছেলে। তিনি পাবনা মহিম চন্দ্র জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম জানান, গত ২৩ জুলাই পারিবারিক অভিমানে ইন্দ্রজিৎ বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ২৯ জুলাই পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তিনি জানান, একই দিন সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা ইন্দ্রজিৎকে খুঁজে পেয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে পাবনা পৌরসভার দিলালপুর বেলতলা সড়কে আহম্মেদ রফিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাদের রিকশার গতিরোধ করে শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে। এ সময় অপহরণকারীরা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডিবি ও সদর থানা পুলিশের সদস্যরা দিলালপুর বেলতলা সড়কের শায়েস্তা খাঁর গলি এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা শিক্ষার্থীকে ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার হওয়া ইন্দ্রজিৎ দাস রায় দেবকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা রিতা রাণী দাস রায় বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার সকালে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।