মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সিইপিএ স্বাক্ষরের পর ‘সিইপিএ নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সিরিমনি’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে প্রথম মুক্ত বাণিজ্যভিত্তিক চুক্তি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি এটিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, চুক্তির আওতায় তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে উল্লেখযোগ্য শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে কোরিয়া থেকে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক এবং বিভিন্ন শিল্প খাতে ব্যবহৃত খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতেও বাংলাদেশ সুবিধা ভোগ করবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতির দেশ। এমন একটি বৃহৎ অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে সরকার প্রায় ৮ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য পূরণে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি অপরিহার্য এবং সিইপিএর মতো চুক্তিগুলো বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস ৫৬ বছরের। টেক্সটাইল শিল্পের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সহযোগিতা এখন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে পণ্যের বহুমুখীকরণের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুই দেশকেই রপ্তানি ও আমদানির পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে।
ইয়ো হান-কু আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। প্রযুক্তি, শিল্প উন্নয়ন, সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) এবং উৎপাদন খাতে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সিইপিএ কার্যকর হলে কোরিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশে আরও অনুকূল পরিবেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।