বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দলটির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো তদন্ত করছে এবং রাজনৈতিক দল হিসেবেও আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সাংবিধানিক সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে শুধু সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বা রাজনৈতিক সংলাপ যথেষ্ট নয়; কার্যকর পরিবর্তনের জন্য জাতীয় সংসদে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী পাস করা প্রয়োজন।
তার ভাষায়, ‘এটি হবে শতাব্দীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সাংবিধানিক সংশোধনী। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদরা যে প্রত্যাশা নিয়ে জীবন দিয়েছেন, সেই প্রত্যাশা পূরণে এই সংশোধনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
বিগত সরকারের সময়ে গুম, খুন ও ‘আয়নাঘর’-এর প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও ৬১ দিন আয়নাঘরে ছিলেন। সেখানে ২৪ ঘণ্টা থাকাও অত্যন্ত কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন এবং এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য আহতদের শ্রেণিভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করে উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা এখনো সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি, তাদেরও দ্রুত তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না।