প্রধান বিষয়বস্তুতে যান
সর্বশেষ
হাসিনার বক্তব্য 'সমর্থন করে না' ভারত, যা জানালেন জয়সওয়াল বোমা হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে পুলিশের সতর্কতা জারি টেপ বল ক্রিকেটকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী 'কিসের হাসিনা! মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়': স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নয়, প্রকৃতি রক্ষা করেই পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমাজে সহিহ আকিদার প্রসার ঘটাতে হবে: দেওবন্দের মুহতামিম বিদেশে পড়াশোনা শেষে তরুণরা যেন দেশে ফিরতে পারে, সেই উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ‘দল ভারী করতে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে সুযোগ দেওয়া উচিত নয়’ জুলাই দিবসে পাঠানো 'মেসেজ' নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন নাহিদ ইসলাম একদিনের সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দিল্লির ছক ও শেখ হাসিনার প্রচারণানির্ভর রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামীর হুমকি ও পথরেখা

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামীর হুমকি ও পথরেখা
শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক প্রেস কনফারেন্স দেখলাম। অনেকেই বক্তব্যের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করছেন। কিন্তু আমার কাছে পুরো প্রেস কনফারেন্সটি কয়েকটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। এগুলোকে আমি আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হিসেবেই তুলে ধরছি।

১. শেখ হাসিনা বদলাননি, তাঁর রাজনীতিও বদলায়নি।

প্রথম যে বিষয়টি চোখে পড়েছে, সেটি হলো—শেখ হাসিনা এখনও শেখ হাসিনাই আছেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, ভাষা এবং প্রতিপক্ষকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন নেই। তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের বক্তব্যেও নতুন কিছু দেখিনি। তবে আন্তর্জাতিক মহলের জন্য কথা বলার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন নেতার বক্তব্যে তুলনামূলক সংযত হওয়ার চেষ্টা চোখে পড়েছে।

২. প্রাণহানির বিতর্ককে সংখ্যার বিতর্কে নামিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছে।

আমার কাছে শেখ হাসিনার ছেলের বক্তব্য আগের চেয়ে আরও সরাসরি মনে হয়েছে। বক্তব্যের সারমর্ম ছিল—প্রাণহানির বিতর্কটি যেন মূলত সংখ্যার বিতর্ক। আমার দৃষ্টিতে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংকেত। কারণ এতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে "কতজন", কিন্তু "কেন", "কীভাবে" এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহির প্রশ্নটি পেছনে চলে যায়। এই দৃষ্টিভঙ্গিই আমার কাছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ।

৩. দেশের বাইরে থেকেও রাজনৈতিক লড়াই থেমে নেই।

বিজ্ঞাপন
728*90 Ad One-P

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রম থেমে নেই। বরং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তিনি তাঁর বক্তব্য বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দিতে পারছেন।

আমার কাছে এখানেই সবচেয়ে বড় শিক্ষা রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যদি কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের সমর্থন বা কূটনৈতিক সুবিধা থাকে, তাহলে রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, এই বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

৪. দেশের ভেতরে সংবাদ নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও বিদেশে বয়ান থামানো যায় না।

বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক নেতার প্রচার সীমিত করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সেটি সম্ভব নয়।

আমার মতে, শেখ হাসিনার বক্তব্য যদি বিদেশি সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারিত হয়, তাহলে তার জবাবও একই পরিসরে দিতে হবে। শুধু দেশীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করা যায় না।

ইংরেজি ভাষায়, আন্তর্জাতিক মানের কনটেন্ট, গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং কার্যকর জনকূটনীতি ছাড়া এই লড়াইয়ে সফল হওয়া কঠিন। যদি এটি না করা হয়, তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে এক ধরনের বিকল্প রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠিত হবে, যা পরে বদলানো কঠিন হয়ে যাবে।

৫. পুরোনো রাজনৈতিক বয়ানেরই পুনরাবৃত্তি দেখছি।

আমার পর্যবেক্ষণে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলে মৌলিক নতুনত্ব নেই। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মুক্তিযুদ্ধ এবং আদর্শিক বিভাজনের পুরোনো বয়ানই আবারও সামনে আসবে বলে মনে হচ্ছে।

আজ হয়তো আক্রমণের কেন্দ্রে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ছাত্রনেতারা। কিন্তু আমার ধারণা, খুব বেশি সময় যাবে না—একই ধরনের বয়ানের লক্ষ্যবস্তু হবেন তারেক রহমান, শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলামসহ বৃহত্তর বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এটি আমার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ; ভবিষ্যৎই এর সত্যতা যাচাই করবে।

৬. বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা—যোগাযোগ।

বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, আমার মতে, তাদের যোগাযোগ কৌশল। অনেক ক্ষেত্রেই মনে হয়েছে, তাদের ডিফল্ট নীতি যেন "নো কমিউনিকেশন"।

তবে ভারতের উদ্দেশে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক নোটটি ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রকে আত্মবিশ্বাসী ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরতে দেখা গেছে। আমার জানা মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে আলোচিত কূটনৈতিক নোটগুলোর একটি।

আমার প্রত্যাশা, এই অভিজ্ঞতা থেকে বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্বও শিক্ষা নেবে। বিশেষ করে তারেক রহমান যদি বিএনপিকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে চান, তাহলে দলকে একটি সুস্পষ্ট মধ্য-ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং বৃহত্তর সরকারবিরোধী মধ্য ও ডানপন্থী শক্তির নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বোঝেন না বা ভিন্ন স্বার্থে পরিচালিত হন—এমন প্রভাব থেকেও দলকে বের করে আনতে হবে।

সবশেষে...

আমার কাছে এই প্রেস কনফারেন্সের সবচেয়ে বড় শিক্ষা একটি—বাংলাদেশের আগামী রাজনৈতিক লড়াই শুধু ভোটের মাঠে হবে না।

এই লড়াই হবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, গবেষণা প্রতিবেদনে, থিংক ট্যাঙ্কে এবং বৈশ্বিক জনমতের অঙ্গনে।

যে রাজনৈতিক শক্তি এই তথ্যযুদ্ধকে গুরুত্ব দেবে, আন্তর্জাতিক ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরবে এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে, ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তার অবস্থানই শক্তিশালী হবে।

বাকি সবাই শুধু দেশের ভেতরের রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত থাকবে, আর বাইরের পৃথিবীতে অন্য কেউ তাদের গল্প লিখে দেবে।

বিজ্ঞাপন
728*90 Ad One-be
ঢাকা ম্যাগাজিনের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
মতামত থেকে আরও
যে বাংলাদেশ এখনো বাকি
৫ আগস্টের বিজয়

যে বাংলাদেশ এখনো বাকি

২ দিন আগে
বিরোধী দল দমন কি বিএনপির ‘নতুন রাজনীতি’

বিরোধী দল দমন কি বিএনপির ‘নতুন রাজনীতি’

৫ দিন আগে
দ্বিতীয় সারির রাজনীতিক থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্বে, এবার ইতিহাস লেখার পালা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

দ্বিতীয় সারির রাজনীতিক থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্বে, এবার ইতিহাস লেখার পালা

২ সপ্তাহ আগে
যেদিন ভয় পরাজিত হয়েছিল

যেদিন ভয় পরাজিত হয়েছিল

৩ সপ্তাহ আগে
কূটনীতির নতুন সম্ভাবনা

কূটনীতির নতুন সম্ভাবনা

১ মাস আগে
হাসিনার বক্তব্য 'সমর্থন করে না' ভারত, যা জানালেন জয়সওয়াল

হাসিনার বক্তব্য 'সমর্থন করে না' ভারত, যা জানালেন জয়সওয়াল

১০ ঘণ্টা আগে