শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদী সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা।
শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই তাঁর ভাইকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়, যা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিতে সহায়তা করে। তিনি ১৯৬৯ সালের শামসুজ্জোহার মতো জুলাই অভ্যুত্থানেও শিক্ষকদের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের তুলনা না করলেও এর উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষিত করা।
জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশিত প্রতিবাদের অভাব এবং সরকারের কাছে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা যেন ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনো স্বার্থে নষ্ট না হয়। তিনি মেধাবীদের যোগ্যতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি এবং নতুন সরকারকে কাজ করার সুযোগ ও সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান।
শহীদ মীর মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা তিনটি বিষয়ে বিভক্ত—ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার। তিনি একজন তরুণ সংসদ সদস্যকে পুরো প্রজন্মের মুখপাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার সমালোচনা করে বলেন, এটি আরেক ধরনের ফ্যাসিবাদ।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমান আচরণ ফ্যাসিবাদী আমলের মতো বলে মন্তব্য করেন তিনি। জুলাই হত্যার বিচারে সাবেক আইজিপির পাঁচ বছরের সাজা ও পুলিশ সদস্যের তিন বছরের সাজায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘দেশ বদলাতে হলে প্রথমে নিজেকে বদলাতে হবে।’
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। সভাপতিত্ব করেন ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ হাসান খান।




