আজ রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) আয়োজিত তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু মুখস্থ করানোর মাধ্যমে শিশুদের জন্য কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আনন্দময় পরিবেশে খেলাধুলা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখার সুযোগ দিলে শিশুদের শেখার সক্ষমতা ও চিন্তার পরিধি বাড়বে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় স্থানীয় খেলাগুলোকে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও শিশুবান্ধব এবং খেলাভিত্তিক শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
৪১২টি স্থানীয় খেলা নথিভুক্ত
প্রতিমন্ত্রী জানান, নেপ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত খেলাধুলা নিয়ে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। এরই মধ্যে ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত ৭০০টির বেশি খেলাকে নিয়মবদ্ধ করে কীভাবে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চীন-জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ
চীন ও জাপানের শিক্ষাব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, এসব দেশে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলাধুলাকে সমন্বয় করা হয়েছে। কোন শ্রেণিতে কোন বিষয়ের কোন অধ্যায় শেখানোর জন্য কোন খেলনা বা খেলা ব্যবহার করা হবে, তা পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ে নির্ধারণ করা থাকে।
এ ক্ষেত্রে পাঠ্যবই প্রকাশক, খেলনা প্রস্তুতকারক এবং পাঠ্যক্রম প্রণয়নকারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা করে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন কীভাবে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাস্তবায়নে জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব
প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে শুধু নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, খেলার জায়গা, শিক্ষার পরিবেশ এবং অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশুদের জন্য আনন্দময়, নিরাপদ ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।





