সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে ঈশ্বরদী পৌর শহরে এ ঘটনা ঘটে। পরে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে বাপ্পীর আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। মধ্যরাতে বাপ্পীসহ তার সঙ্গে থাকা পাঁচজনকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাপ্পী মাথা ও শরীরে সাদা কাফনের কাপড় জড়িয়ে লাইসেন্স করা শটগান হাতে শহরের রাস্তায় বের হন। তার সঙ্গে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সুলভ মালিথাসহ কয়েকজন ছিলেন।
বাপ্পীর দাবি, তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় মাদক ও সুদের কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ জানাতেই তিনি মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অস্ত্র হাতে রাস্তায় বের হয়েছেন।
পরে তিনি ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান, তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিনি প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ জানিয়ে থানায় এসেছেন।
এদিকে বাপ্পী থানায় অবস্থান করছেন জানতে পেরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনিসহ কয়েকজন থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
মেহেদী হাসানের অভিযোগ, বাপ্পী প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বকুলের মোড় থেকে রেলগেট এলাকায় আসেন এবং তাকে গালাগাল ও হত্যার হুমকি দেন। তিনি বাপ্পীকে গ্রেপ্তার এবং তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান।
পরে মধ্যরাতে বাপ্পীসহ তার সঙ্গে থাকা পাঁচজনকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে পরে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, মেহেদী হাসানকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার গোলাম রাব্বী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বাপ্পী অস্ত্রের লাইসেন্সের কোনো শর্ত ভঙ্গ করেছেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।





