দলীয় সূত্র বলছে, নেতৃত্বে পরিবর্তন ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কৃত নেতাদের আবেদন যাচাই করে যোগ্যদের দলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে গত দুই মাস ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠন শুরু হয়েছে। কোথাও আহ্বায়ক কমিটি, কোথাও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং কোথাও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী চার থেকে পাঁচ মাস ধরে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলতে পারে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তরুণ, মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক নেতৃত্বে বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জেলা, মহানগর কিংবা উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে না রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। দল ও সরকারের দায়িত্ব পৃথক রাখার নীতির আলোকে ‘এক নেতা, এক পদ’ ব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই উদ্যোগের পক্ষে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতাদের ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকেও নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও ইতোমধ্যে কয়েকজন নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯ সদস্যের এই কমিটিতে বর্তমানে তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যু, পদত্যাগ ও বহিষ্কারের কারণে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের ১২টি পদও খালি রয়েছে। এসব পদে নতুন মুখ আনার প্রক্রিয়া চলছে।
কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের মধ্য থেকে কাউকে এ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
একই সঙ্গে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব পুনর্গঠনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে বলে জানা গেছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানিয়েছেন, দল পুনর্গঠনের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে এর চূড়ান্ত পর্ব সম্পন্ন হবে। জরুরি প্রয়োজন রয়েছে এমন জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তবে জাতীয় কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নেতৃত্বে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও জানিয়েছেন, জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজ চলছে। বিভিন্ন ইউনিটে নতুন কমিটি দেওয়া হচ্ছে এবং বাকি ইউনিটগুলোর পুনর্গঠনও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে। সারাদেশের ইউনিট কমিটি পুনর্গঠনের পরই জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।




