গাজীপুরের সাত বছরের মিনহাজ কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে র্যাবিস টিকার দুটি ডোজ নেয়। তৃতীয় ডোজের সময় স্থানীয়ভাবে টিকা না পেয়ে তাকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রোববার সেখানে তাকে তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে গড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ বিভিন্ন প্রাণীর আক্রমণের শিকার হন। এর মধ্যে কুকুরের কামড় থেকেই প্রায় ৯৫ শতাংশ জলাতঙ্ক সংক্রমণ ঘটে। ২০২৩ সালে জলাতঙ্কে ৪২ জন, ২০২৪ সালে ৫৮ জন এবং ২০২৫ সালে ৫৯ জন মারা গেছেন। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের।
মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত রোগীর চাপও বেড়েছে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে চিকিৎসা নেন ৯৩ হাজার ৩৮০ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৩ এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩ জনে দাঁড়ায়। চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৫৫৮ জন।
চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের কামড়ের পর দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। গভীর ক্ষত বা রক্তপাত হলে র্যাবিস ভ্যাকসিনের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি) দিতে হয়। মাথা, মুখ ও ঘাড়ের কাছে কামড় হলে চিকিৎসা নিতে কোনোভাবেই দেরি করা উচিত নয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর জলাতঙ্কে প্রায় ৫৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়, যাদের বড় অংশ শিশু। ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্কজনিত মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে বিশ্বব্যাপী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ডোজ র্যাবিস ভ্যাকসিন ও ৩ লাখ ডোজ র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন সরবরাহের কার্যক্রম রয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঢাকার বাইরে অনেক স্থানে প্রয়োজনের সময় টিকা না পাওয়ায় তাদের বেশি দামে বাইরে থেকে টিকা কিনতে বা ঢাকায় আসতে হচ্ছে। অন্যদিকে সিডিসির সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান দাবি করেছেন, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে টিকার সংকট নেই।




