বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার লন্ডনের কয়েকটি ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সন্দেহে আরও একজনকে আটক করা হয়। এ সময় মুঠোফোন, গয়না ও বিপুল পরিমাণ পাউন্ড জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চক্রটি আশ্রয়প্রার্থীদের সমকামী হিসেবে দেখাতে সাজানো ছবি, জাল কাগজপত্র ও বিভিন্ন সমর্থনপত্র তৈরি করে দিত। এর বিনিময়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়া হতো। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক ডজন বাংলাদেশি পুরুষের এমন আশ্রয় আবেদনে সহায়তা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার বলেন, পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলভিত্তিক বাংলাদেশিদের এলজিবিটি সংগঠন ‘আপনজন’-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সন্দেহজনক আশ্রয় আবেদন থেকেই তদন্তের সূত্রপাত। কয়েক মাসের তদন্তের পর মঙ্গলবার অভিযান চালানো হয়।
স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত শতাধিক আশ্রয় আবেদন বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু ভুয়া আবেদন অনুমোদিত হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিবিসির এ বছরের এপ্রিলের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার জন্য কিছু অভিবাসীকে সমকামী সেজে আবেদন করতে আইনজীবী ও পরামর্শকেরা সহায়তা করছেন। প্রতিবেদনে একজন আইনি পরামর্শকের গোপনে ধারণ করা বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, আশ্রয়প্রাপ্তির জন্য মিথ্যা দাবি করে প্রতারণা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ জব্দ এবং আশ্রয় আবেদন বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলেও জানিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।




