মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দাসাদি গ্রামের বড় খান বাড়ীর মাঠে নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা হলে পরবর্তী বছর উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জেলেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইলিশের জীবনচক্র ও প্রজনন সম্পর্কে তাঁদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই মা ইলিশ রক্ষার দায়িত্বও তাঁদের বেশি।
চাঁদপুরে একসময় প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলের বরফকলসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব পড়েছে। সরকারি সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি চাল দেওয়া হলেও জেলেদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ ছাড়া সংরক্ষণের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময়ে জেলেদের আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাময়িক সহায়তার পাশাপাশি টেকসই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সরকার চিন্তা করছে। চাঁদপুরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নদীতে খাঁচায় মাছ চাষসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প আয়ের সুযোগ খতিয়ে দেখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি জেলেদের নিজেদের ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। ইলিশের প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় সরকার, জেলে, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম উল্যা সেলিম।
অনুষ্ঠান শেষে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করেন মন্ত্রী।




