সোমবার (১৩ জুলাই) নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
তিনি জানান, “হৃদয়ে ঢাকা” শুধু একটি উৎসব নয়; এটি ঢাকার ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ এবং পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নাগরিকবান্ধব রাজধানী গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।
কর্মসূচির সূচি
৩১ জুলাই
- ভোরে ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালি’
- বিকেলে হাতি, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকিসহ ঐতিহ্যবাহী ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’
১ আগস্ট (ঢাকা দিবস)
- ভোরে ‘ঢাকা হেরিটেজ ম্যারাথন’
- বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় উৎসবের উদ্বোধন
- ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ
২ আগস্ট
- লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব
- ‘ঢাকা আড্ডা’
- কাওয়ালী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
৩ আগস্ট
- বুড়িগঙ্গা নদীতে (খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট) ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ
১–৭ আগস্ট
- মধুমিতা সিনেমা হলে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শনী
- বিটিভিতে বিশেষ নাটক ও অনুষ্ঠান
- শিল্পকলা একাডেমিতে নাটক, আর্ট ক্যাম্প ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
- রাজধানীর বিপণিবিতানে ‘দি গ্রেট ঢাকা সেল’
- সদরঘাট থেকে ঐতিহ্যবাহী নৌযানে ‘হেরিটেজ ক্রুজ’
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসক বলেন, ১৬১০ সালে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকার যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক নগর প্রশাসনের সূচনা হয়। সেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় ১ আগস্টকে ‘ঢাকা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণ-আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান—বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে ঢাকার নাম জড়িয়ে আছে। সেই ঐতিহ্য ধারণ করেই পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্মার্ট ও আধুনিক রাজধানী গড়ে তুলতে কাজ করছে ডিএসসিসি।
আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, অনুকূল পরিবেশ থাকলে নির্ধারিত সময়েই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
দেশি-বিদেশি পর্যটক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং নগরবাসীকে সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।