সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মানবিক সংকটে খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক (স্টেম) শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, অঙ্কভীতি নয়, বিজ্ঞানই হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিচয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে শিক্ষাকে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সেই বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হবে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে, যা একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের স্টেম শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা বেছে নিতে পারে।
তিনি জানান, ব্র্যাক, লেগো ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের বাস্তবায়িত খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এসব কার্যক্রমের সফল মডেল মূল্যায়ন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলাধুলাভিত্তিক বিজ্ঞানাগার ও স্টেম ল্যাব চালুর সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কয়েকশ বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম শিক্ষার মান নির্ধারণে সরকার কাজ করছে। শিক্ষক, পাঠ্যক্রম, অবকাঠামো ও শিক্ষার গুণগত মান—সব ক্ষেত্রেই একটি জাতীয় মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় ভাষা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শেখার অর্জন এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ বাস্তবতা পরিবর্তনে শিক্ষা সংস্কার, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।