নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে থাকা শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন উৎপাদন ও সেবাখাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এক বছরের কম মেয়াদের ঋণ মূল কোম্পানি বা বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে নিতে পারবে।
কর্মপরিচালনার মূলধনের (ইনপুট ক্রয় ব্যতীত) জন্য সুদবিহীন ঋণ গ্রহণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না। একইভাবে ঋণের মূল অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
তবে সুদযুক্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বার্ষিক অল-ইন-কস্ট ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ধরনের ঋণের মেয়াদ নবায়ন করা গেলেও মোট মেয়াদ তিন বছরের বেশি হবে না এবং তা মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি ঋণে রূপান্তর করা যাবে না।
এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি মধ্যমেয়াদি ঋণের অর্থ মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি, বৈধ সেবা গ্রহণ এবং অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করা যাবে।
এই মেয়াদে সুদবিহীন ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে সুদযুক্ত ঋণের সীমা রাখা হয়েছে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার এবং সর্বোচ্চ সুদের হার হবে বার্ষিক ৩ শতাংশ।
৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ এককালীন (বুলেট পেমেন্ট) পদ্ধতিতে পরিশোধ করা যাবে। প্রয়োজনে মধ্যমেয়াদি ঋণ পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে রূপান্তরের সুযোগও থাকবে।
পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অর্থও মূলধনী বিনিয়োগে ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও সুদবিহীন ঋণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সুদযুক্ত দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বার্ষিক সুদের হার ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের ঋণ এককালীন পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী—
- ঋণগ্রহীতার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সন্তোষজনক রেকর্ড থাকতে হবে।
- সুদযুক্ত ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ-ইকুইটি অনুপাত সর্বোচ্চ ৮০:২০ হতে হবে।
- ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে জমা রাখতে হবে।
- সব ধরনের লেনদেন অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে।
- ঋণের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
- ঋণ বিতরণের ১৪ দিনের মধ্যে এবং চুক্তি সংশোধনের ৭ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।
- প্রয়োজনে বকেয়া ঋণ ইকুইটিতে রূপান্তরের সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ সহজ করা এবং দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ বাড়ানোই এ নীতিমালার মূল লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বিধানের ফলে বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর মূলধন ও বিনিয়োগ অর্থায়ন দ্রুত নিশ্চিত করতে পারবে। এর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।