রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ এবং ‘ফ্যাসিবাদী শাসনে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের লড়াই একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মদান না হলে দেশ স্বাধীনতা ফিরে পেত না এবং অনেক পরিবর্তনও সম্ভব হতো না।
তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলো প্রশ্ন করা। সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার অধিকার সবসময় অক্ষুণ্ন রাখতে হবে এবং এই অবস্থান থেকে তারা সরে আসবেন না।
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল গঠনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান বলেন, দেশের সব সংবাদপত্রের সম্পাদকদের একটি প্ল্যাটফর্মে আনার পাশাপাশি ঢাকার বাইরের সম্পাদকদেরও সম্পৃক্ত করাই ছিল সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে জাতিকে সচেতন রাখাও এনইসির উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের পেছনে গণমাধ্যমের একটি অংশের তোষামোদী ভূমিকা ছিল। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল। এতে আরও বক্তব্য দেন দৈনিক যুগান্তর-এর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, নয়া দিগন্ত-এর সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, দ্য নিউ নেশন-এর সম্পাদক মোকাররম হোসেন, ডেইলি ওয়াদার-এর সম্পাদক শফিকুল আলম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামালসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নিহত পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা।