নতুন নিয়মে কী কী পরিবর্তন?
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করা হবে। একই সঙ্গে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ও সর্বোচ্চ চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইনেটেড স্কুল অফিসিয়াল (ডিএসও) প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীর অবস্থানের মেয়াদ বাড়াতে পারতেন। নতুন নিয়মে চার বছরের বেশি থাকতে হলে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর অনুমোদন নিতে হবে।
এ ছাড়া কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন এবং একাডেমিক কার্যক্রম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
গ্রেস পিরিয়ড কমছে
পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সময়সীমা বা গ্রেস পিরিয়ড ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীকে দেশ ছাড়তে হবে অথবা অন্য ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
পুরোনো ভিসাধারীরাও নতুন নিয়মে
বর্তমানে পাঁচ বছরের শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরতদের ক্ষেত্রেও নতুন নীতিমালা প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
পিএইচডি বা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণাভিত্তিক কোর্স সম্পন্ন করতে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত বছর সময় লাগে। নতুন নিয়মে সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও অনুমোদন পাওয়া নিশ্চিত নয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় থাকা শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনজীবী রাজু মহাজনের মতে, যারা নিয়ম মেনে পড়াশোনা করছেন, তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তবে ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অন্য কাজে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি বাড়বে।
একই মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নোবেল ও বর্ণনা ভৌমিক। তাদের মতে, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম বড় কোনো সমস্যা তৈরি করবে না; মূল লক্ষ্য হলো অনিয়ম ও ভিসার অপব্যবহার বন্ধ করা।
ওপিটি সুবিধা অপরিবর্তিত
পড়াশোনা শেষে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) সুবিধায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের মতোই স্টেম (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ তিন বছর এবং নন-স্টেম শিক্ষার্থীরা এক বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পাবেন। গ্র্যাজুয়েশন শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে হবে।
কঠোর অভিবাসন নীতির পেছনে নির্বাচন?
আইনজীবী রাজু মহাজনের মতে, ২০২৬ সালের মার্কিন নির্বাচনের আগে অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়ে ভোটারদের সমর্থন বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, এর আগে ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের নিয়মও কঠোর করা হয়েছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা স্থগিত এবং বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের আবেদনকারীদের জন্য ৫ থেকে ১৫ হাজার ডলারের ভিসা বন্ড চালুর মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তবে অতীতে এ ধরনের বেশ কয়েকটি কঠোর নীতি আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে।