রোববার (১৯ জুলাই) পাবনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পারভেজ আখতার বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি (নং-৩৬) দায়ের করেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম (৩৮), সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মীর রাব্বিউল ইসলাম সীমান্ত (২৭), বর্তমান সভাপতি যুবায়ের বিশ্বাস অন্তু (৩২) এবং সাধারণ সম্পাদক তৌশিকুর রহমান ওরফে রাভা (২৮)।
পাবনা সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, অবৈধ সমাবেশ এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে পাবনা পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শালগাড়িয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এবং মালিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গোপন বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে সদর হাসপাতাল সড়কের জাকিরের মোড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও ইটের টুকরা ফেলে মোটরসাইকেলযোগে এবং দৌড়ে পালিয়ে যান।
অভিযানের পর ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি চাইনিজ কুড়াল, তিনটি লোহার রড, তিনটি বাঁশের লাঠি এবং ২০টি ইটের টুকরা জব্দ করা হয়। স্থানীয় দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে এসব আলামত জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।