স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা ও সদস্যসচিব মোখলেছুর রহমানের স্বাক্ষরে রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে ১৮ নম্বর সদস্য হিসেবে রামখানা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাখারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত আফাজ উদ্দিনের নাম রাখা হয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আফাজ উদ্দিন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। তিনি চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তার জানাজায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নিলেও প্রায় পাঁচ মাস পর প্রকাশিত কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ উঠেছে, কমিটিতে শুধু মৃত ব্যক্তির নামই নয়, জামায়াতে ইসলামী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজনের নামও রাখা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না, এমন ব্যক্তিদেরও বিভিন্ন পদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আফাজ উদ্দিনের কবর জিয়ারতের একটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করেন, তার মৃত্যুর পর উপজেলা বিএনপির নেতারা কবর জিয়ারত ও দোয়া করেছিলেন।
আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, তার স্বামী প্রায় পাঁচ মাস আগে মারা গেছেন এবং মৃত্যুর পরদিন বিএনপির নেতারা তাদের বাড়িতে এসে কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সবুর উদ্দিনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সদস্যসচিব হাশেম আলী ব্যস্ততার কথা জানিয়ে ফোন কেটে দেন।
তবে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, প্রয়াত আফাজ উদ্দিনের নাম যদি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, তবে সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হবে।