বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়া প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল-২০২৬ অনুযায়ী, জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’–এর প্রতি ইচ্ছাকৃত অসম্মান বা এর পরিবেশনায় বাধা সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। নতুন আইনে ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’–এর সমান আইনগত মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
আইনটি পাস হওয়ার পর শুক্রবার এক বিবৃতিতে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংগঠনটির দাবি, এ আইন ভারতের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী এবং নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত।
একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ–এর সভাপতি আরশাদ মাদানি। তিনি বলেন, বিলটি সংবিধান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, জনগণের প্রকৃত সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের মুখপাত্র ড. এস. কিউ. আর. ইলিয়াস বলেন, আইনের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’কে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা শুধু আপত্তিকরই নয়, বরং সংবিধানের মৌলিক নীতিরও পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সংবিধান প্রণয়নের সময় গণপরিষদ দীর্ঘ আলোচনার পর ‘বন্দে মাতরম’-এর শুধুমাত্র প্রথম দুটি স্তবক জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণ করেছিল। কারণ, পরবর্তী স্তবকগুলোর ধর্মীয় বিষয়বস্তু দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে বিবেচিত হয়েছিল।
আরশাদ মাদানি বলেন, কেউ স্বেচ্ছায় ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বা আবৃত্তি করতে চাইলে তাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী একজন মুসলমান কেবল আল্লাহরই ইবাদত করেন। তাই গানের কিছু অংশ ইসলামী আকীদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং কোনো মুসলমানকে আইন করে এটি গাইতে বা গ্রহণ করতে বাধ্য করা উচিত নয়।