মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওআইআরডি) আয়োজিত ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা থেকে সরে আসার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে জনগণের রায়কে সম্মান জানানো ছাড়া অন্য কোনো পথে যাওয়ার সুযোগ নেই। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না জামায়াতে ইসলামী।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে যার যে অবদান রয়েছে, তা যথাযথভাবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রণয়ন না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ পরিবারের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে অনেক রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য ও অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে সরকারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি নির্ধারিত সময়ে চালু করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জুলাইয়ের স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে আড়াল করার কোনো প্রচেষ্টা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি কোনো ধরনের হয়রানি বা সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ওআইআরডির উপদেষ্টা ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ অন্যান্য অতিথিরা।