বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার (৫ আগস্ট) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১২৭ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৪ দশমিক ৪০ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মান কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের কাছে স্বর্ণ কেনা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়েছে। অন্যদিকে তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে—এমন প্রত্যাশায় সুদের হার নিয়ে বাজারের উদ্বেগও হ্রাস পেয়েছে, যা স্বর্ণের বাজারকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কাতার মধ্যস্থতায় অগ্রগতির খবর এলেও তেহরান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ওএএনডিএর সিনিয়র মার্কেট বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, তেলের বাজার ও স্বর্ণের দামের মধ্যে এখনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার বিষয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি হলে স্বর্ণবাজারে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা কমে ৫৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের দিন ছিল ৬৭ শতাংশ। সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের হার এর বিনিয়োগ আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ফিলাডেলফিয়ার প্রেসিডেন্ট আনা পলসন বলেছেন, ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে সব ধরনের সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং শুক্রবার প্রকাশিতব্য জুলাই মাসের কর্মসংস্থান তথ্যের দিকে। টিডি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষকদের ধারণা, স্বর্ণের দাম আপাতত বর্তমান পরিসরের মধ্যেই ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৬০ দশমিক ৬৪ ডলারে, প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৫৮ দশমিক ৩৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৬২ ডলারে পৌঁছেছে।