সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মচারীদের জন্য মাসিক সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে গঠিত সেলের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। পৌরসভাগুলোতে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে চারটি, ‘খ’ শ্রেণিতে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণিতে দুটি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের প্রতি ওয়ার্ডে ছয়টি মসজিদ বাছাই করা হবে। মন্দিরের ক্ষেত্রে প্রতি উপজেলা থেকে পাঁচটি নির্বাচন করা হবে—‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা থেকে দুটি এবং অন্যান্য শ্রেণি থেকে একটি করে। বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা; মুয়াজ্জিন, সেবাইত, উপাধ্যক্ষ ও সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা; এবং মসজিদের খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী। এই অর্থ সরাসরি ইএফটির মাধ্যমে উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।
চলতি অর্থবছরে এ খাতে বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ বছর প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় আসছে; আগামী তিন বছরের মধ্যে শতভাগ প্রতিষ্ঠানকে আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবারের মতো সম্মানী দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ১৪ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।




