শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে তুহিন আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিডির কপি প্রকাশ করে আসাদুল্লাহ সোহাগ অভিযোগ করেন, তুহিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তার পেছনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতার হাত রয়েছে। এ কারণে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে তুহিনের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের তথ্য রয়েছে। এতে বাদী হিসেবে মরিয়ম আক্তার এবং বিবাদী হিসেবে মো. তুহিন হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে সালমানপুর এলাকায় অলি মিয়ার দোকানের সামনে সোহাগের কাছ থেকে মোটরসাইকেলটি নেন তুহিন। এর আগে ২৭ মার্চ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের একটি শোরুম থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় সুজুকি মনোটন মোটরসাইকেলটি কেনেন সোহাগ। তুহিন তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় নিয়মিত মোটরসাইকেলটি চালাতেন। ঘটনার দিন মোটরসাইকেল নেওয়ার পর সেটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানার সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিডির কপিটি পুলিশও দেখেছে। অপ্রতীম হত্যা মামলার তদন্তের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সম্পূর্ণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি যাচাই করা হবে।
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে তুহিনকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম নামে আরও দুজনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতীমের মায়ের আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতীম। শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে অন্য দুজনকে আটক করা হয়।




