ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপলের সাবেক প্রধান নির্বাহী টিম কুকের সঙ্গে বৈঠকের পর রোববার এ কথা জানান আলবানিজ। তিনি বলেন, শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে অস্ট্রেলিয়া একা কাজটি করতে পারবে না। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আলবানিজ জানান, শিশুদের অনলাইনে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে বর্তমানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কী করা প্রয়োজন, তা নিয়ে কুকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কুকও জানান, শিশুদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে অ্যাপলের নতুন শক্তিশালী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে আলবানিজকে অবহিত করেছেন।
অস্ট্রেলিয়া গত বছর ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। শিশুদের অনলাইন হয়রানি এবং তাদের লক্ষ্য করে ক্ষতিকর অ্যালগরিদমের ব্যবহার ঠেকাতে নেওয়া এই পদক্ষেপকে বিশ্বের অন্যতম কঠোর উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত খসড়া আইনে ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার প্রতি যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের ইচ্ছা অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম বন্ধ রাখার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলীয়দের মধ্যে ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে বলে সাম্প্রতিক তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, শিল্প সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা শেষে বছরের শেষ দিকে খসড়া আইনটি পার্লামেন্টে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা আলবানিজ এআই নিয়ন্ত্রণেও কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। বছরের শেষ নাগাদ এআই ব্যবহারের জন্য নতুন মানদণ্ড বা বিধিমালা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এআই এমনভাবে বিকশিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যাতে এটি কী তৈরি করছে তার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে।
আলবানিজের প্রশ্ন, কীভাবে নিশ্চিত করা হবে যে এআইয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই থাকবে এবং প্রযুক্তি যেন মানুষের নিয়ন্ত্রক হয়ে না ওঠে।




