শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কে বক্তব্যে জয়শঙ্কর উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ জানান। তিনি সংযম, উত্তেজনা প্রশমন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং জ্বালানি ও বাণিজ্যের নির্বিঘ্ন প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। তাই ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে যুদ্ধের অবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থায়ন, বাজার, সরবরাহব্যবস্থা ও প্রযুক্তিকে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হচ্ছে এবং খাদ্য, জ্বালানি, সার ও অর্থায়নসংক্রান্ত সংকটে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
সন্ত্রাসবাদকে আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য স্থায়ী হুমকি উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির আহ্বান জানান।
ভারতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো শাসনব্যবস্থা ও সামাজিক-অর্থনৈতিক সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, অবকাঠামো, টেকসই কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে ৭৮টি দেশে ৬০০টি উন্নয়ন প্রকল্পে ভারত সহায়তা করেছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ব ক্রমেই বহুমেরুকেন্দ্রিকতার দিকে এগোচ্ছে উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সভ্য সংলাপ প্রয়োজন। বক্তব্যের শেষে মহাত্মা গান্ধীর বাণী উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘শান্তির কোনো পথ নেই। শান্তিই পথ।’
সূত্র: ইউএন নিউজ




