সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৩৭ ডলারে উঠেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত তীব্র হওয়া এবং ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের দাবির পরপরই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে শেয়ার, মুদ্রা ও বন্ডবাজারেও।
ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে মার্কিন ডলারের মূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদহার বেড়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করা হবে। একই দিনে ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসে বক্তব্য দেবেন। এ দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০টি জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালি অতিক্রম করানো হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ নৌপথে চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
করপোরেট খাতেও ব্যস্ত সপ্তাহ অপেক্ষা করছে। মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ব্যাংক চলতি প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করবে। এরপর নেটফ্লিক্স ও জেনারেল ইলেকট্রিকসহ বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানও তাদের আয়-ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করবে। বিশ্লেষকদের আশা, ভালো আর্থিক ফলাফল বাজারের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত করতে পারে।
বিনিয়োগ ব্যাংক সিটির বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনো শক্তিশালী রয়েছে। তবে সোমবার দিনের শুরুতে সেই ইতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারে দেখা যায়নি।
এদিন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক ফিউচার নিম্নমুখী ছিল। ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোর ফিউচারও কমেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো বড় পতনের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে জাপান ছাড়া এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এমএসসিআই সূচকও নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এক্সঅ্যানালিস্টসের প্রধান তেল বিশ্লেষক মুকেশ সহদেব মনে করেন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বরজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে।
অন্যদিকে আইজি গ্রুপের বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইয়িপের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম।
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বন্ডবাজারেও পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০২৫ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে বন্ডের উচ্চ সুদহারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা কিছুটা কমেছে। প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি কমে ৪ হাজার ৭৬ ডলারে নেমে এসেছে।