বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু ১১ আগস্ট একদিনেই দেশে এসেছে ১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মাসের বাকি সময়ও যদি এই গতি ধরে রাখা যায়, তাহলে আগস্টে রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৪২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মাত্র ৪২ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এ দেশে রেমিট্যান্স আসে প্রায় ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের চেয়ে প্রায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। ফলে অর্থবছরের প্রথম ৪২ দিনেই রেমিট্যান্স ৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধির পেছনে আগের অর্থবছরের শক্তিশালী ভিত্তিও রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেকর্ড ৩৫.৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বেশ কয়েকটি মাসে রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল—জুনে ২.৮১৭ বিলিয়ন, মে মাসে ৩.৪৪৩ বিলিয়ন এবং মার্চে ৩.৭৫২ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ বাড়লে আমদানি দায় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হয়।
জুলাই ও আগস্টের শুরুর এই গতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে নতুন উচ্চতা স্পর্শ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে মাসের শেষ পর্যন্ত প্রবাহের গতি, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিস্থিতি এবং বিনিময়হারের ওপর চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে।
সব মিলিয়ে, অর্থবছরের প্রথম ৪২ দিনে ৪.২৫ বিলিয়ন ডলার এবং আগস্টের মাত্র ১১ দিনেই ১.৩৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।





