সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স ও ৮০টি হাইওয়ে প্যাট্রোল মোটরসাইকেল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সমন্বিত নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, মহাসড়কের পাশে থাকা বাজার স্থানান্তর, আঞ্চলিক সড়কের সংযোগস্থলে প্রয়োজনীয় ডাইভারশন নির্মাণ এবং সড়কে স্পষ্ট মার্কিং ও সাইনেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত গতি, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং পথচারীদের অসচেতনতার কথা উল্লেখ করেন শেখ রবিউল আলম। চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, উদ্বোধন করা অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। মহাসড়কের পাশে থাকা হাসপাতালগুলোতে পৃথক ইউনিট চালুর পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রতি ১০ কিলোমিটারে একটি করে অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ট্রমা সেন্টারগুলো সচল করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। তার মতে, দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তা ও সরকারি অর্থায়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের প্রতিটি টাকা নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় কার্যকরভাবে ব্যয় করতে হবে। জনগণের অর্থে এমন কোনো প্রকল্প নেওয়া যাবে না, যার সুফল জনগণ পাবে না।
তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসচেতনতা বাড়ানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে না পারলে সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে।
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প (BRSP) দেশের প্রথম বহুখাতভিত্তিক এবং ‘Safe System Approach’-ভিত্তিক উদ্যোগ। প্রকল্পটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ, বিআরটিএ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে।




