বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের বিলপাড়-গজারিয়া গ্রামের মৃত মহরম আলী ও ফুলবানু দম্পতির পাঁচ সন্তানই শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্মের পর থেকেই কারও শরীরের নিচের অংশ অচল, আবার কারও হাত-পা দুর্বল ও বাঁকা হয়ে গেছে।
শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত তাদের জন্য কঠিন হলেও কেউই পড়াশোনা বন্ধ করেননি। বড় ভাই সুজন মিয়া কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। মারজিয়া বেগম ব্যবস্থাপনায় স্নাতক শেষ করেছেন। জহুরা বেগম সমাজকর্ম বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়ছেন, মুক্তা আক্তার এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন এবং ছোট বোন পান্না আক্তার পড়ছেন দশম শ্রেণিতে।
তাদের একটাই চাওয়া, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ। পড়াশোনা শেষ করে কারও করুণার পাত্র না হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে চান তারা।
বড় ভাই সুজন মিয়া বলেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি এবং তার ভাই-বোনেরা কখনো আশা ছাড়েননি। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পরিবারের একজনেরও যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে পুরো পরিবারটি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাবে।
পিরিজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল জুয়েল তাদের সংগ্রামকে অনুপ্রেরণাদায়ক উল্লেখ করে বলেন, উপযুক্ত সুযোগ পেলে এই পাঁচ ভাই-বোন অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবেন।
বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর তিনি পরিবারটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দ্রুত সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।




