‘১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল এসএসসি ২০০২ ও এইচএসসি ২০০৪ বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে বন্ধুদের আড্ডা, স্মৃতিচারণ, আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ছবি তোলা, উপহার ও খাবারের মধ্য দিয়ে কাটে দিনটি। দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের একত্রিত হওয়ার সুযোগে ফিরে আসে স্কুল ও কলেজ জীবনের নানা স্মৃতি।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া গোলাম শাওন রহমান তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এবার প্রোগ্রাম শুরু থেকে শেষ এক কর্নারে বসেই শেষ করেছি। আমি প্রোগ্রামে গেছি প্রোগ্রাম উপভোগ করতে, ছবি তুলতে নয়। কিছু বন্ধুর মোবাইলে কয়েকটি ছবি পেয়েছি—বলা যায় ধার করা ছবি। তবে ২৮ আগস্টের পুরো দিনটাই ভালোভাবে কেটেছে।”
বন্ধুত্বের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “হারানো আর পুরোনো, অতীত আর বর্তমান—সব মিলিয়ে ভবিষ্যৎ হোক জয়জয়কার। প্রোগ্রাম মানেই বন্ধুদের মিলনমেলা। বেঁচে থাকুক সুন্দর সম্পর্কগুলো। নিপাত যাক হিংসা ও বিচ্ছেদ, পৃথিবীটা হোক আলোয় আলোকিত।”
তিনি অনুষ্ঠানের জন্য ০২০৪ গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বন্ধুদের জন্য এমন সুন্দর একটি আয়োজন উপহার দেওয়ায় তিনি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। পাশাপাশি যারা ব্যস্ততার মধ্যেও তার সঙ্গে ছবি তুলেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কায়সার আহমেদ আনান। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার মনের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা নিবেদন করছি সেই সকল বন্ধুদের প্রতি, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জন্য আমাদের প্রাণের গ্রুপ এসএসসি ২০০২ ও এইচএসসি ২০০৪ বাংলাদেশের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে সবার সঙ্গে ছবি তুলতে না পারার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, সবাই অনুষ্ঠানের নানা কাজে ব্যস্ত থাকায় সবার সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ হয়নি। তবে পুরো আয়োজন উপভোগ করেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানের খাবারের প্রশংসা করে কায়সার আহমেদ আনান বলেন, খাবারের মধ্যে তার সবচেয়ে ভালো লেগেছে কেক, জর্দা, গ্রামিকার খেজুরের গুড়ের মুরালি ও নারিকেলের নাড়ু। উপহারের মধ্যে ওয়াটার পট তার সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে। পাশাপাশি আয়োজনে দেওয়া টি-শার্টের আরামদায়ক ও নরম কাপড়েরও প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি বলেন, “টি-শার্টটা অনেক সফট, মনে হচ্ছে না গায়ে কিছু আছে। কাপড়ের মান খুব ভালো হয়েছে। ওভারঅল সকল আয়োজক বন্ধু ও স্বেচ্ছাসেবক বন্ধুদের নিরলসভাবে কাজ করার কারণেই এবারের প্রোগ্রাম এত সুশৃঙ্খল ও সফল হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।”
নিজের প্রতি বন্ধুদের আন্তরিক ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমার প্রতি তোমাদের সকলের আন্তরিক ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ, আমি অভিভূত।”
আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুধু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নয়, বরং পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার একটি সুযোগ তৈরি হয়। অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের আনন্দ এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশাকে সঙ্গে নিয়ে বন্ধুদের এই মিলনমেলা প্রমাণ করেছে—সময় ও দূরত্ব পেরিয়ে সত্যিকারের বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট থাকে।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির এই বন্ধন ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে। হিংসা-বিভেদ ভুলে বন্ধুত্বের আলোয় আরও সুন্দর হয়ে উঠবে আগামী দিনের পথচলা।
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এসএসসি ২০০২ ও এইচএসসি ২০০৪ বাংলাদেশের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন তাই হয়ে উঠেছে পুরোনো বন্ধুদের স্মৃতি ও ভালোবাসায় ভরা এক আনন্দঘন মিলনমেলা।




