তদন্তে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ ওই টেলিফোন সংযোগের কপার কেবল চুরির ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। অভিযুক্তরা হলেন—সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র, ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলাম ও মো. মাহাবুব হাসান। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. মোর্শেদুল হাসান বলেন, তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটি শুধু চুরি হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্যের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তে জানা যায়, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ছাদ পরিষ্কার করার সময় রঞ্জন চন্দ্র ব্লেড দিয়ে টেলিফোনের তামার তার কেটে নেন। ঈদের ছুটি শেষে ওই তার ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন তিনি।
২৫ মে থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর ১ জুন সচিবালয় খোলার দিনে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি নজরে আসে। পরে বিটিসিএল কর্মকর্তারা সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে মামলা হলে রঞ্জন ও ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই তার কেনার অভিযোগে মাহাবুব হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে একাধিক স্থান থেকে মোট ১২ কেজি ৪০০ গ্রাম চোরাই তামার তার উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, রঞ্জন সচিবালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং দৈনিক ২০০ টাকা মজুরি পেতেন। ছাদে প্যাঁচানো অবস্থায় থাকা বিপুল পরিমাণ তামার তার দেখে লোভে পড়ে তিনি তা কেটে নেন। জিজ্ঞাসাবাদে এর আগেও ছোটখাটো মালামাল চুরির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।




