রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মন্ত্রী গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তাদের কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। অপ্রতিম হত্যার তদন্ত দ্রুত শেষ করে চার্জশিট দেওয়া এবং রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এ মামলার বিচারও দ্রুত সম্পন্ন করতে বিচার বিভাগকে সহযোগিতার কথা জানান মন্ত্রী।
শিশু নিখোঁজের পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তার মতে, সামাজিক অবক্ষয়ের সঙ্গে মাদক, জুয়া ও পর্নোগ্রাফিসহ বিভিন্ন অনুষঙ্গের যোগসূত্র রয়েছে। সামাজিক শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথাকথিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যদের শনাক্তের কাজ চলছে।
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে। চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রতিক লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা করেছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে ঘাটতির কারণে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এরই মধ্যে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তেজগাঁওয়ের একটি মসজিদে গোপন বৈঠকের অভিযোগে ২৩ জনকে আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রমাণ না পাওয়ায় ১১ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে নতুন একটি উগ্রবাদী সংগঠন গঠনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।




