বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সারা দেশে ক্যাশলেস ও অভিন্ন ডিজিটাল টোল ব্যবস্থার লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পদ্মা সেতুতে ইটিসি চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দূরপাল্লার বাস, বাণিজ্যিক ট্রাক এবং ব্যক্তিগত গাড়িসহ মোট ৫৬ হাজার ৪০৬টি যানবাহন ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে টোল পরিশোধ করে নির্বিঘ্নে সেতু পার হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা আনা এবং জনগণকে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় সেবা দিতে ইটিসি কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তদারকির ফলে পদ্মা সেতুতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় ব্যবস্থা সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইটিসির মাধ্যমে ১০ কোটির বেশি টোল আদায় এবং এক হাজারের বেশি যানবাহনের নিবন্ধন শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও ক্যাশলেস করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বর্তমানে ‘ট্যাপ’, বিকাশ, নগদ, উপায়সহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ট্রাস্ট ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে।
ইটিসিতে নিবন্ধনের জন্য ব্যবহারকারীদের সংশ্লিষ্ট অ্যাপের ‘D-Toll’ অপশনে গিয়ে মোটরযানের নম্বর ও চেসিস নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ‘D-Toll Top-Up’ সেবার মাধ্যমে ব্যালেন্স রিচার্জ করে প্রথমবার মাওয়া টোল প্লাজার নিবন্ধন বুথ বা টোল বুথে গিয়ে বিআরটিএ অনুমোদিত RFID ট্যাগ যাচাই করতে হবে। একবার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ইটিসি লেন ব্যবহার করে থামা ছাড়াই সেতু পার হওয়া যাবে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রুটের ইমাদ, দোলা, সার্বিক ও গোল্ডেন লাইন পরিবহনসহ অনেক বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত যানবাহন ইতোমধ্যে নিয়মিত ইটিসি ব্যবহার করছে।
ইটিসি লেনে চলাচলকারী যানবাহনকে টোল প্লাজায় থামতে হয় না। ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলাচলের মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ সম্পন্ন হয়। ফলে অপেক্ষার সময় কমে, যানজট হ্রাস পায়, জ্বালানি সাশ্রয় হয় এবং কার্বন নিঃসরণও কমে আসে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পদ্মা সেতুর এই ইটিসি মডেলকে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেলেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সব পরিবহন মালিক ও চালকদের দ্রুত ইটিসিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।